
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাড়ির জ্বালানির ভুয়া খরচ দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক ইকরাম হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল প্রায় চার ঘণ্টা নগর ভবনে অভিযান চালায়। এসময় নথিপত্র জব্দ করা হয় এবং গাড়িচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদক সূত্র জানিয়েছে, জব্দ নথি ও চালকদের জিজ্ঞাসাবাদে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এতে শুধু গাড়িচালক নয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িত বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক ইকরাম হোসেন বলেন,
“‘নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ, তবু কোটি টাকার তেল খরচ’—প্রথম আলোতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। অভিযানে আমরা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। এখন কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেব, পরে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযান প্রসঙ্গে ডিএসসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, “দুদক এসে অনেক নথি নিয়ে গেছে।”
৪ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের কারণে ৪০ দিন নগর ভবনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ওই সময়ে কর্মকর্তাদের অনেকেই অফিসে আসেননি। তবুও প্রতিদিন তাঁদের জন্য বরাদ্দ গাড়ির বিপরীতে ১৪–১৫ লিটার তেল খরচ দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়—অফিস বন্ধ থাকার পরও এত তেল গেল কোথায়? এখন দুদকের অভিযানে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। দুদকের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে শিগগিরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।







