
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারীদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানায়, জনজীবনে অংশগ্রহণ একটি মৌলিক অধিকার এবং এর আওতায় সব নারী ও কিশোরী, প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, লিঙ্গ-বৈচিত্র্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীসহ ঝুঁকিতে থাকা সকল নারীর নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
নির্বাচনের আগে নারী গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কথা তুলে ধরে জাতিসংঘ জানায়, নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা বাড়ছে।
এর মধ্যে ডিজিটাল সহিংসতা, সাইবার বুলিং, ডিপফেক, সমন্বিত অনলাইন হয়রানি এবং এআই-পরিবর্তিত ও চিত্রভিত্তিক নির্যাতনের মতো ঘটনাও রয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীসহ জনজীবনে সক্রিয় নারীরা এসব অনলাইন ও অফলাইন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, যা নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণে বড় বাধা তৈরি করছে।
নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব বৃদ্ধিতে জাতিসংঘ ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারীসহ সকল ভোটার যেন ভীতি প্রদর্শন, বৈষম্য, অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এ সময় রাজনৈতিক দল, নেতা ও তাদের সমর্থকদের প্রতি নির্বাচনী প্রক্রিয়া জুড়ে নারীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হয়রানি ও যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে জাতিসংঘ আশা প্রকাশ করে এবং প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।







