
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ বর্তমানে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে উপদেষ্টা পরিষদ কোন সিদ্ধান্ত নেবে বা কোন কাগজে সই করবে, তা তারা নিজেরা নির্ধারণ করতে পারছে না; বরং নেপথ্যে থেকে আমলাতন্ত্রের শক্তিশালী একটি মহল এসব নিয়ন্ত্রণ করছে।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কারবিমুখতা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সরকার বিভিন্ন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত আমলাতন্ত্রের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একটি প্রভাবশালী মহলের কাছে নতিস্বীকার করছে। ফলে সংস্কারের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং একধরনের ‘অন্তর্ঘাতমূলক’ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রণীত বিভিন্ন অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে অংশীজন বা সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রেখে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংস্কারে আমলাতান্ত্রিক আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে লোকদেখানোভাবে খসড়া অধ্যাদেশ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলেও অংশীজনদের গঠনমূলক প্রস্তাবনাগুলো কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই উপেক্ষা করা হয়েছে। টিআইবি মনে করে, এর মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে আমলাতন্ত্র ও ক্ষমতাশীনদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বজায় রাখার পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।
সরকারের এমন অবস্থানের কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের নতিস্বীকার করার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও এটি স্পষ্ট যে আমলাতন্ত্রের ওই প্রভাবশালী অংশটি শুধু নিজেদের গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় লিপ্ত।







